০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান রিটন

রাসিক প্রশাসক কে হচ্ছেন? উত্তেজনায় রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। অভিজ্ঞ ও সাবেক একাধিক নেতার নাম আলোচনায় এলেও নগরবাসী ও তৃণমূল কর্মীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাই তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।

সরেজমিনে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিবান্ধব ও গতিশীল নেতৃত্ব চায়। নগরবাসীর মতে, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রিটন মহানগর যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজের বোঝাপড়া তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে অনেকের মত।

প্রশাসক পদের দৌড়ে অভিজ্ঞতার দিক থেকে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ২০১৩ সালে নির্বাচিত হয়ে আইনি জটিলতায় পূর্ণ মেয়াদে কাজ করতে না পারলেও তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য তিনিই উপযুক্ত প্রার্থী।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ প্রশাসক নিয়োগে সরাসরি তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, দলের সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর আস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও নেতা আবুল কালাম আজাদও এই পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা একটি বড় ফ্যাক্টর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরই নির্ভর করছে।


নগরবাসীর একাংশের মতে, সাবেক মেয়রদের প্রতি সম্মান রেখেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ ও উদ্যমী নেতৃত্বের প্রয়োজন। তাঁদের বিশ্বাস, রিটনের মতো প্রজন্মগতভাবে নতুন কেউ দায়িত্ব পেলে নগরসেবা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “রাসিক প্রশাসক নিয়োগ এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং বড় রাজনৈতিক সমীকরণের অংশে পরিণত হয়েছে।”

তবে সবার প্রত্যাশা এক—ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড় বিষয় হলো নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন। যে-ই আসুক, তার মূল লক্ষ্য হতে হবে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী রাজশাহী গড়ে তোলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান রিটন

রাসিক প্রশাসক কে হচ্ছেন? উত্তেজনায় রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন

আপডেট সময় : ১১:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। অভিজ্ঞ ও সাবেক একাধিক নেতার নাম আলোচনায় এলেও নগরবাসী ও তৃণমূল কর্মীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাই তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।

সরেজমিনে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিবান্ধব ও গতিশীল নেতৃত্ব চায়। নগরবাসীর মতে, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রিটন মহানগর যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজের বোঝাপড়া তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে অনেকের মত।

প্রশাসক পদের দৌড়ে অভিজ্ঞতার দিক থেকে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ২০১৩ সালে নির্বাচিত হয়ে আইনি জটিলতায় পূর্ণ মেয়াদে কাজ করতে না পারলেও তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য তিনিই উপযুক্ত প্রার্থী।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ প্রশাসক নিয়োগে সরাসরি তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, দলের সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর আস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও নেতা আবুল কালাম আজাদও এই পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা একটি বড় ফ্যাক্টর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরই নির্ভর করছে।


নগরবাসীর একাংশের মতে, সাবেক মেয়রদের প্রতি সম্মান রেখেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ ও উদ্যমী নেতৃত্বের প্রয়োজন। তাঁদের বিশ্বাস, রিটনের মতো প্রজন্মগতভাবে নতুন কেউ দায়িত্ব পেলে নগরসেবা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “রাসিক প্রশাসক নিয়োগ এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং বড় রাজনৈতিক সমীকরণের অংশে পরিণত হয়েছে।”

তবে সবার প্রত্যাশা এক—ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড় বিষয় হলো নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন। যে-ই আসুক, তার মূল লক্ষ্য হতে হবে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী রাজশাহী গড়ে তোলা।