বাঘায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সংকট: পাম্প বন্ধ, খোলা বাজারে তিনগুণ দামে বিক্রি
- আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৫১৬ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের একটি পেট্রোল পাম্প টানা দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও জ্বালানি সরবরাহ ছিল বন্ধ। অনেকে দুপুরে তেল আসার আশায় অপেক্ষা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানী এলাকায় অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডিপোতে গভীর রাতে তেল সরবরাহ এসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বেশি দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না।
এদিকে খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে পরিবহন খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে—এটি স্পষ্ট কারসাজি।” কৃষক হাবিব বলেন, “এই সময়ে সেচ না দিতে পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
ডিপো মালিকদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
বাঘা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে অনিয়ম রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বাঘার জ্বালানি সংকট কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির দুর্বলতার প্রতিফলন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত তদারকি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

















