মোহনপুরে তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: পাম্প মালিকের অনিয়মে উত্তাল জনতা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৮৮ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুরে জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে কেশরহাট মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে রহমান ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা টাকার বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে তেল বিক্রি করছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করছে।
১১ এপ্রিল (শনিবার) সকাল থেকে তেল বিতরণ শুরু হলে রহমান ফিলিং স্টেশনে কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বেলা ১২টার দিকে পাম্প মালিক মিজান নিজের পছন্দের লোকজনকে টাকার বিনিময়ে জারকিনে করে পেট্রোল সরবরাহ শুরু করেন। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মোটরসাইকেলের হর্ণ বাজিয়ে প্রতিবাদ জানালে পাম্প মালিক ও তার লোকজন উল্টো গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে।

একপর্যায়ে পাম্পের বাইরে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্প মালিক মিজানের আস্থাভাজন বাকশৈল গ্রামের সোহেল রানা (৩৫)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হন এবং চিকিৎসা নিতে হয়।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাম্প মালিক মিজান ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেন। এতে তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষমাণ শত শত গ্রাহক ক্ষোভে ফেটে পড়ে সড়ক অবরোধে নামেন। এতে এলাকায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফিলিং স্টেশনে টোকেন বাণিজ্য চালু রয়েছে। টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল দেওয়া হয়, এমনকি বোতলেও তেল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্পের কর্মচারীরা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে তেল সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কৃষকরা সেচ পাম্প নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।চাকরিজীবী নারীসহ জরুরি প্রয়োজনের গ্রাহকরাও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কেউ কেউ অপমানজনক আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক সারাদিন পাম্পে অবস্থান করে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছেন এবং পছন্দের লোকজনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল নিতে সহযোগিতা করছেন। এমনকি দিন শেষে অর্থের বিনিময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে—যা জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তেল না পেয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের এক কর্মকর্তা ফিরে যাচ্ছেন। কৃষকরাও সেচের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, পাম্পের মেশিন থেকে পরিমাণে কম তেল দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহনপুর থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, শুরুতে পুলিশ সদস্যরা সুষ্ঠুভাবে সারিবদ্ধভাবে তেল বিতরণে সহায়তা করছিলেন। কিন্তু পরে পাম্প মালিক ও তার লোকজন হস্তক্ষেপ করে নিয়ম ভেঙে তেল বিতরণ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাম্প মালিককে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই পুলিশ সদস্য।
পরবর্তীতে বেলা দুইটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নারী, পুরুষ ও কৃষকদের মাঝে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল বিতরণ শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
এবিষয়ে মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন এর মালিক মিজানুর রহমান রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিষদাগার করে বলেন, নেতাদের টোকেন, উপজেলার টোকেন এর তেল দেওয়ার জন্যইতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের অদূরদর্শিতা, তদারকির অভাব এবং কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।













