০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব: সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে উত্তেজনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৬৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি : জুলাই যোদ্ধাদের দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন। শনিবার সকালে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ডেকে তিনি এ পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ইউএনওর এমন অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে তাঁকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব ২০০৯ সালে উপজেলা সদরের ডাইংপাড়া মোড়ে নিজস্ব এককক্ষ ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘদিন এর সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠন সম্প্রতি প্রেসক্লাবে নিজেদের অফিস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন গত ২৪ মার্চ ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরদিনই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে নিয়মিত বসতে পারছেন না।

প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মো. রহমতুল্লাহসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে অনুরোধ করেন, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাব খোলা না হোক। এরপর থেকে সাংবাদিকরা কার্যত প্রেসক্লাব ব্যবহার করতে পারছেন না।

সংগঠনটির সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই জুলাই আন্দোলনের আহতদের জন্য প্রেসক্লাবে অফিস করার দাবি উঠেছিল, যা তিনি কয়েকবার ঠেকিয়েছেন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা ও বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। তিনি জানান, কিছু ব্যক্তি ভবনটি গুঁড়িয়ে সেখানে পাবলিক টয়লেট বা যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কথাও বলছেন।

এই বিষয়ে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু বলেন, “প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তার কোনো হস্তক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী হতে পারে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”


অন্যদিকে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন জানান, প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু সরাসরি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের অফিসে এসে বিস্তারিত জানার অনুরোধ করেন।


মো. রহমতুল্লাহ বলেন, প্রেসক্লাব সরকারি জায়গায় অবস্থিত, তাই সেখানে সাংবাদিকদের কার্যক্রম পরিচালনা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। প্রয়োজনে অন্যত্র প্রেসক্লাব হলে ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবও রেখেছেন। তিনি অতীতে প্রেসক্লাব থেকে ‘অসৎ কর্মকাণ্ড’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।


উল্লেখ্য, অতীতেও গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। ২০১০ সালে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এটি বন্ধ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন অগ্নিসংযোগে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসে সংস্কার শেষে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব: সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি : জুলাই যোদ্ধাদের দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন। শনিবার সকালে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ডেকে তিনি এ পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ইউএনওর এমন অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে তাঁকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব ২০০৯ সালে উপজেলা সদরের ডাইংপাড়া মোড়ে নিজস্ব এককক্ষ ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘদিন এর সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠন সম্প্রতি প্রেসক্লাবে নিজেদের অফিস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন গত ২৪ মার্চ ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরদিনই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে নিয়মিত বসতে পারছেন না।

প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মো. রহমতুল্লাহসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে অনুরোধ করেন, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাব খোলা না হোক। এরপর থেকে সাংবাদিকরা কার্যত প্রেসক্লাব ব্যবহার করতে পারছেন না।

সংগঠনটির সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই জুলাই আন্দোলনের আহতদের জন্য প্রেসক্লাবে অফিস করার দাবি উঠেছিল, যা তিনি কয়েকবার ঠেকিয়েছেন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা ও বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। তিনি জানান, কিছু ব্যক্তি ভবনটি গুঁড়িয়ে সেখানে পাবলিক টয়লেট বা যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কথাও বলছেন।

এই বিষয়ে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু বলেন, “প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তার কোনো হস্তক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী হতে পারে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”


অন্যদিকে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন জানান, প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু সরাসরি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের অফিসে এসে বিস্তারিত জানার অনুরোধ করেন।


মো. রহমতুল্লাহ বলেন, প্রেসক্লাব সরকারি জায়গায় অবস্থিত, তাই সেখানে সাংবাদিকদের কার্যক্রম পরিচালনা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। প্রয়োজনে অন্যত্র প্রেসক্লাব হলে ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবও রেখেছেন। তিনি অতীতে প্রেসক্লাব থেকে ‘অসৎ কর্মকাণ্ড’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।


উল্লেখ্য, অতীতেও গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। ২০১০ সালে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এটি বন্ধ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন অগ্নিসংযোগে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসে সংস্কার শেষে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।